ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়নের ২ নাম্বার ওয়ার্ডের ৫৯০ দরিদ্র নারীকে সুবিধাভোগী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি ডা. আব্দুস সালাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা প্রমুখ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার সারা দেশে এ বিশেষ পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে শর্তসাপেক্ষে দেশের ১৪টি উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে এ কার্ড বিতরণের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে এ কর্মসূচি চালু হল।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম জানান, একটি বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রতিটি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক জরিপ চালানো হয়। প্রাথমিক তালিকায় ২ নাম্বার ওয়ার্ডের ১ হাজার ৩৫ নারীর নাম এসেছিল। আইডি কার্ডের জটিলতা কাটিয়ে ১ হাজার ১০ জনের তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় স্কোরের ভিত্তিতে ৫৯০ যোগ্য নারীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানান, তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে।
কার্ড হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রহিমানপুর গ্রামের ৫০ বছর বয়সি মারজিনা বেগম। তিনি বলেন, আমার স্বামী স্থায়ী কোনো কাজ করেন না। এ কার্ড পাওয়ায় অন্তত এখন থেকে নিত্যদিনের চাল-ডাল কেনার চিন্তা কিছুটা কমল। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বর্গাচাষী পরিবারের রাজিয়া সুলতানা (৩২) জানান, তাদের তিন সন্তান পড়াশোনা করছে। এ ভাতার টাকা সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসার চালাতে বড় সহায়তা হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন